অদেখা নিয়তি পানে
আদিম থেকে আজ অবধি যে সকল পার্থিব পরিবর্তন দেখা যায় সেগুলোর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে একই সাথে আমি সন্ধিহান ও বিস্মিত হয়ে পড়ি, ঈশ্বরে (প্রকৃতির প্রতি) নতজানু হওয়া ভিন্ন উপায় থাকে না। অনন্ত অমীমাংসিত এক শ্রীহীন প্রশ্ন আমায় ভীষণ রকম ভাববাদী করে তোলে, প্রয়োজনই যদি বিবর্তনের জননী হয় – প্রয়োজনের অনুভূতি জন্মে কোন আধারে?
যখন আমি বয়সে আরো নবীন, আরো চঞ্চল, আরো রক্ষণশীল, তখন এক রঙা পোশাক পছন্দ করতাম। মাল্টি কালার, চেক, স্ট্রাইপ বা কোনো প্রিন্টের পোশাক আমার কাছে কমপ্লেক্স মনে হতো। ফুল-শার্ট ভালো লাগতো, নিজেকে হাফ-শার্ট ব্যবহার থেকে বিরত রেখে নিজের মনে মনে আলাদা একটা গর্ববোধ হতো। টি-শার্ট, হাফ-শার্ট, পাঞ্জাবি-ফতুয়া ব্যবহারকারী থেকে চেয়ে নিজেকে আলাদা মনে করে বিচিত্র এক অহংকার আমায় আবিষ্ট করতো।
মিউজিক টেস্টও ছিলো খুঁত খুঁতে স্বভাবের, নিজের পছন্দের গুটি কয়েক জেনারের মিউজিক উপভোগ উন্নত রুচির পরিচায়ক মনে হতো। আমি যে খাবারে অভ্যস্ত তার বাইরে অন্যান্য খাবার গুলো জঘন্য মনে হতো। সমমনা লোক ব্যতীত বাকিদের মনে হতো অবাঞ্ছিত নির্বোধ সম্প্রদায়। বর্তমানে বুঝি ছেলেবেলায় আমার চিন্তা-বুদ্ধি-চেতনা ছিলো আত্মকেন্দ্রিক, গোঁড়া, সাম্প্রদায়িক।
চলবে…
Photo: Arijit B.