ছায়া ছাড়ে না
দেবী তোমায় পেছনে ফেলে
যখন আমি ছুটে চলি অগ্রদূত হয়ে
সামনে আমার ছায়া পড়ে;
যতই এগিয়ে যাই
ততই দীর্ঘ মহীরুহ হয় নিজের অপচ্ছায়া,
নিজের সে নিকষ প্রতিবিম্বে আমি ভয় পাই,
মুষড়ে পড়ি কাতর যন্ত্রনায়।
আমি তোমায় রেখে দেখেছি সন্মুখেও
তাতেও হয় বিপত্তি, হয় অস্বস্তির কারন;
তোমার সূর্য্যোউজ্জ্বল দীপ্তি স্রোত
আমার ক্ষুদ্র চোখে বাঁধ ভাঙে
আমি অন্ধ হই, নিজেকে হারিয়ে ফেলি।
প্রিয়া তোমায় নিচে ফেলে
ভীষণ চাপে ভর করে দাঁড়াতে চেয়েছি,
স্থির হতে চেয়েছি, পারিনি;
প্রবল বিকর্ষণ আমায় ছুঁড়ে দিয়েছে মহাশূন্যে
যেখানে গ্রাভিটি নেই, নেই কোন হৃদয়ের টান।
ভাবছো, “কেন উপরে রাখিনি!”,
অনি, জন্ম তোমার, আমার তৃতীয় নয়নে
ঠিক যেখানে রাজটিকা জ্বলজ্বল জ্বলে;
জ্বললে কি হবে,
মূলের আঁধার ছাড়া কি প্রদীপ হয়?
হয়না, প্রকৃতি হতে দেয়না।
ভিক্ষে আমি এত সহজে চাইতে আসিনি প্রিয়া
কাঠখড় আর নিজেকে পুড়ে চেষ্টা করেছি বেশ,
ডানে রেখেছি, রেখে দেখেছি নষ্ট বামেও
হয়না হয়না কিছুতেই হয়না ব্যালেন্স,
চাপা আর্তনাদে ডুবে মরে সুখ
আর, অট্টহাসি হাসে ভায়োলেন্স।
তুমি চেয়েছিলে স্বাধীনতা,
দিয়েছিতো পাঁজর খুলে
কৈ পালাতে তো পারোনি,
এইযে স্বাচ্ছন্দের ঘুঙুরে
ছন্দময় করে চলেছো লাইন গুলো,
কালিহীন কীবোর্ড কলমে
রঙ ছড়াচ্ছো উন্মুক্ত সুরে।
নাহ্, ছায়া ছাড়ে না,
মুক্তি মেলেনা অতৃপ্ত প্রেতযোনি কাঙালের।
তাই, আজ বাহির ছেড়ে অন্তরে এসো দেবী
আমার আদিম স্বত্বায় বাস করো নিজের মতো করে।
অনাদির শুরু থেকে তুমি এখানেই ছিলে
থাকো অনন্তকাল,
আলোকিত করো পূর্ণ প্রকৃতি
ছুঁড়ে ফেলো সব নশ্বর জঞ্জাল…!
Photo: Free-Photos