এখন আর কাউকে আলাদা করে চিনতে পারি না। পিতা-পিতামহ, আত্মীয়-অনাত্মীয়, প্রিয়-প্রত্যাশিত, অসভ্য-অযাচিত সবাইকে এক লাগে। এমনকি দর্পণেও দাঁড়িয়ে হাসে সেই একই অস্থিসার অবয়ব!
ওদের উন্মুক্ত করোটিতে নেই রক্ত-মাংস-চামড়ার জটিল বিন্যাস। এমনকি নাকে-কানে-কপালে কোথাও নেই কোনো নর-নারী, ধনী-মানি প্রভেদের বিন্দুমাত্র লেস।
ওদের খুলিতে মগজ নেই, মনে যোগাযোগের জ্যাম নেই, জোড়াতালি সুখ নেই, জমা-খরচের হিসেব ঠাসা – সংখ্যার শোক নেই, সেখানে শুধু রাশ-রাশ শুদ্ধ অন্ধকার।
দেখি ঘরে-বাইরে, শহরে ও গ্রামে, পালে-পালে যত্তসব যান্তব বধির ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওরা বধির, শান্ত-সুধীর, নয়তো অধীর।
ওদের, কম-বেশী মাপা নেই, হাফ-ফুল হাতা নেই, মালা-ঝোলা গলা নেই, জ্ঞান-গীত গান নেই। কানে কোনো দুল নেই, কানাকানি ভুল নেই, ইতিউতি মন নেই, ই-য়ার-ফোন নেই, শোরগোল হ্যাপা নেই, চশমার ঠ্যাং নেই, কি আর বলি বলো- করো কোনো কান নেই!
ওদের চক্ষু কোঠরে কর্নিয়া-আইরিশ-রেটিনা নেই; লেন্স নেই, সেন্স নেই, নেই-নেই কিচ্ছু নেই। সেই শুন্য গভীরে থাকে অন্ধ ঘুমের বন্ধ নিরবতা। সেখানে শুধু নিঃশব্দে উড়ে বেড়ায় স্বপ্ন নামের রঙিন দু’চারটে উজ্জ্বল প্রজাপতি।
ওদের নাসিকা গহ্বরে কোনো নাক নেই, তাই তাদের সরু-বোঁচায় বঞ্চনা নেই। নেই সেখানে নথ-নোলা-নোজপিনের বিভেদ-বিভাজন।
ওদের চর্ম নেই, তাই বর্ণ নেই, বর্ণ বৈষম্য নেই, ওদের আছে শুধু পুরনো হাড়ের ফুরোনো রঙ। ওদের হয়তো মন নেই, তাই হয়তো মন খারাপের ভয়ও নেই। ওরা বড়-ছোট, নর-নারী, নবাব-কুলীন-কামার-চামার-চাষা, দেখতে সব একরকম সুন্দর, হাস্যোজ্জ্বল-পবিত্র।
ওদের ঠোঁট থাকে না, গাল থাকে না। গাল না থাকায়- গালে কোমল টোল, কিংবা কদর্য গালাগালও থাকে না। ওদের দৃঢ় চোয়ালে দিনান্তের ক্লান্তি লাগে না, কালান্তের অভিব্যক্তি থাকে না, থাকে সদা বিকশিত দু’পাটি দন্তরাশি আর আপ্রাণ-অফুরান নিশ্চুপ প্রশস্ত হাসি।
Photo: Arijit B. (AI based)