শাশ্বত পরিচয়
হয়তো শেষ প্রতিশ্রুতি রেখে
প্রতি রাতে আমি যাই ডুবে মরে;
আবার যখন বেঁচে উঠি চোখ মেলে
চেটেপুটে খাই পূর্ণ রবির আলো
তাজা অক্সিজেনে ভরে ফুসফুস,
তোমার সাথে পরিচয় হয় নতুন করে
ঠিক প্রকৃতির প্রথম পরিচয়ের মতো।
মনে পড়ে সোনা সেই সে সকাল বেলা,
তোমার রাঙা পা দু’টো ভিজিয়ে ছিলাম
দূর্বা ডগার শিশির বিন্দু হয়ে?
তোমার সে স্নিগ্ধ শিহরণ এখনো আমায়
চঞ্চল করে তোলে প্রথম স্পর্শের মতো।
অথবা যে দুপুরে পিপাসার জল চেয়েছিলে
ছুটেছিলেম আমি শীতল তটিনী অন্বেষণে,
আজো সেই এক মরু তৃষ্ণা নিয়ে
টলতে টলতে চলি ফোরাত বক্ষ খোঁজে,
বিরহের রক্তে ভেজাই চৌচির শুষ্ক হৃদয়।
মনে পড়ে? খেলার ছলে বা সজ্ঞানে
উন্মুক্ত নখের যে আচড় তুমি কেটেছিলে,
নোনা ঘামে ভেজা নগ্ন বাহুতে আমার?
জ্বালা হয়েছিলো একবিন্দু রক্তও ছিলো তাতে;
আবার তা পেতে, নিজেরে আঘাত করেছি নিজে
আর হয়েছি ক্লান্ত বারবার অশান্ত অবসাদে।
পিনউড রেস্তোরা আর স্টার কাবাবের মড়া
টেবল চেয়ার প্লেট মাগ ফর্ক ব্যার্থ পড়ে রয়,
ওয়েটার কি সব সার্ভ করে রসহীন রসনা স্বরূপ
শেফ্রা হয়েছে ভূতের উকিল; হয়না সে স্বাদ
দেবী, যা ছিলো অবশিষ্ট প্রসাদে তোমার।
আমি পহেলা বৈশাখীর রঙিন মেলার সুখের ভিড়ে
কাঁচের চুড়ি ছুঁয়ে দেখেছি বারবার অনেকবার,
পকেটে পুরেছি পুতির মালাও, প্রাণ মেলেনি তাতে
আঁজলায় ভরে গেছে শুধু স্বার্থপর লোভী হাহাকারে;
জীবনের স্বরূপ আমি খুঁজেছি ঢাকা মেডিকেল মর্গে
গোরস্থানের পুরোনো ইটের পাঁজরে; নেই নেই নেই
সেখানেও নেই শান্তির সুর সবার শুধু চাই তোমাকেই,
মন্দির প্রাঙ্গণে কেঁদেছি গোপনে, মুক্তি মেলেনি তবুও
মায়ার নাগপাশ আরো শক্ত করে আষ্টেপৃষ্ঠে
জড়িয়ে ধরেছে দানবীয় অক্টোয়াসের মতো।
এখন তাই করেনা তোমায় হারানোর কোন ভয়,
এ আমাদের জন্মান্তরের যোগ জাতিস্মরের পূর্ব পরিচয়।
আমি আদি চর্যাপদ কবি আমি জালালুদ্দিন রুমী,
আমি কায়কোবাদ, নারোদ পিকাসো দুঃখী মিয়া আমি
আমি সত্যেন আমি তানসেন, আমি মাইকেল রবি।
বারে বার মরি ফিরে এসে মিলি তবু শেষ হওয়ার নয়,
প্রকৃতির পূজো পুস্প প্রণয় মোদের শাশ্বত পরিচয়।
Photo: Pixabay